৭০ ভাগ সরকারি মাধ্যমিক স্কুলেই নেই প্রধান শিক্ষক | বাংলাদেশ

৭০ ভাগ সরকারি মাধ্যমিক স্কুলেই নেই প্রধান শিক্ষক | বাংলাদেশ

<![CDATA[

সারা দেশে ২৩৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। যা মোট প্রধান শিক্ষক পদের ৭০ শতাংশ। সেইসঙ্গে আছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা কর্মকর্তারও সংকটও।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, এ সংস্থার আওতায় থাকা সহকারী শিক্ষক থেকে উপ-পরিচালক পর্যন্ত ২২ শতাংশ পদই শূন্য। আর মহাপরিচালক বলছেন, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী বছরের শুরুতে সহকারী শিক্ষকের সংকট কাটবে। তবে, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষা কর্মকর্তার সংকট কবে কাটবে তার উত্তর জানা নেই অধিদপ্তরের।

ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, আমি শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে বেঞ্চ টানি এবং গত কয়েকটা পরীক্ষার বেঞ্চ টানাটানি করতে গিয়ে আমি ডান হাতে ব্যথা পেয়েছিলাম। সবশেষ ২৩ ডিসেম্বর পরীক্ষার দিন আমার একজনও পিয়ন ছিল না, আমি সেদিন ট্রাঙ্ক নিয়ে যাওয়ার সময় হাতে ব্যথা পেয়েছিলাম সেটা এখনো রয়ে গেছে।
 

স্কুলে কোনো দপ্তরি না থাকায় প্রশ্নপত্রের ট্রাঙ্ক আর পরীক্ষা হলের বেঞ্চ সাজাতে গিয়ে এই অভিজ্ঞতা হয়েছে জাতীয় পর্যায়ে পাঁচবার সেরা প্রতিষ্ঠান বলে স্বীকৃত ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের।

দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এই প্রতিষ্ঠানে চতুর্থ শ্রেণির ১০টি পদের মধ্যে মোটে একটি পদে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছে। আর তাই দুই বার সারা দেশের প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে সেরা বলে স্বীকৃতি পাওয়া নাছিমা আক্তারকে প্রায়শই গায়ে গতরে কখনো দপ্তরি, কখনো নৈশ্য প্রহরী আবার কখনো দারোয়ানের অভাব পূরণ করতে হয়।
 

শুধু ময়মনসিংহ নয়, জনবল সংকটে ধুকছে রাজধানীরও অনেক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ও। তার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর শহিদ মনু মিঞা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নতুন করে শিক্ষকের পদ সৃষ্টি না করায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে এবার শীত হতে পারে ব্যতিক্রমী
 

শহিদ মনু মিঞা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ে যতগুলো পদ থাকা দরকার ততগুলো পদ শুরু থেকে সৃষ্টি হয়নি। দশটি ক্লাসে একযোগে অন্তত ১০ জন শিক্ষককে যেতে হয়, কিন্তু আমাদের পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই।
 

মাধ্যমিক ও উচ্চিশক্ষা অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারাদেশে ১০ হাজার ৯০৮টি সহকারি শিক্ষকের পদের মধ্যে ২ হাজার ১৮০টি পদ খালি। আর সহকারি প্রধান শিক্ষকের ৪৬৭টি পদের মধ্যে খালি ৯০টি। ৩৪৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৩৩টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক।
 

মাধ্যমিক ও উচ্চিশক্ষা অধিদপ্তর বলছে, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে সহকারী শিক্ষক সংকট কাটবে। তবে, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে নানা জটিলতার কথা বললেন মহাপরিচালক।
 

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। আমি যতটুকু জানি তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রায় হয়ে গেছে। এখন যেকোনো মুহূর্তে সরকার এই শিক্ষকদের নিয়োগ দিবে।
 

মহাপরিচালক যে দুই হাজার ১৫৫টি পদে শিগগিরই নিয়োগের কথা বলছেন তার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল তিন বছর আগে।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *