২০২১-এর নোবেল বিজয়ীর দৃষ্টিতে ইতালির শিক্ষা ও গবেষণা | আন্তর্জাতিক

২০২১-এর নোবেল বিজয়ীর দৃষ্টিতে ইতালির শিক্ষা ও গবেষণা | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

ইতালির পদার্থবিজ্ঞানী জর্জিও প্যারিসির দৃষ্টিতে ইতালির উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে অনেক দিন ধরে!

ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী জর্জিও প্যারিসি গত সোমবার নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। কিন্তু এমন অর্জনের পিছনে বছরের পর বছর ধরে তাকে তরুণ বয়স থেকে  অনেক জটিলতার মধ্যে কাজ করতে যেতে হয়েছে। 

 

এছাড়াও তাঁর মতো অনেক বয়সে তরুণ বিজ্ঞানীকে দেশের বাইরে যেতে হয় প্রতিনিয়ত। ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইস্তাত-এর তথ্য মতে, প্রায় ১৪ হাজার ইতালীয় গবেষক ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশ ছেড়েছেন । বিভিন্ন প্রজেক্টে বিনিয়োগের অভাবে,তারা দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।

 

“ইতালি গবেষকদের জন্য একটি আন্তরিক দেশ নয়, ইতালীয় বা বিদেশী যেই হোক না কেন,” এমনটাই মনে করেন ২০২১ সালে নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ৭৩ বছর বয়সী জর্জিও প্যারিসি। গত অক্টোবর মাসে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তিনি বলেন ইতালিতে গবেষণা ক্ষেত্রে কম অর্থায়ন করা হচ্ছে এবং  তা গত ১০-১৫ বছরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে ইতালির।

 

গবেষণার সরকারী তহবিল ২০০৭ সালে ৯.৯ বিলিয়ন ইউরো থেকে ২০১৫ সালে ৮.৩ বিলিয়ন-এ নেমে এসেছে । সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২০১৯ সালে, ইউরোজোনের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইতালির গবেষণা ব্যয় ইইউর গড় ব্যয় থেকে উল্লেখযোগ্য হারে কম ছিল।

জর্জিও প্যারিসির পাশাপাশি, সাম্প্রতিক দশকে কিছু বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী তৈরি হয়েছে ইতালিতে।

এসব বিষয়ে সাফাই দিতে সরকারী  কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে,২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পরে গবেষণার বাজেট কমানো হয়েছিল। অন্যদিকে  প্রকৃত সত্য হলো ইতালির কুখ্যাত আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতির জন্য তরুণ প্রতিভাকে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেন মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

 

তাই তরুণ প্রতিভাবানদের অনেকেই ইতালি ছেড়ে অন্যত্র সুযোগ গ্রহণে চেষ্টা করেন।প্যারিসি আরো বলেন: তহবিলের অভাব, চাকরির প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে পরিচিতি এবং  প্রার্থীর প্রকাশিত নিবন্ধের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে  গবেষক নিয়োগ একটি অত্যন্ত জটিল সিস্টেম যা সত্যিই কার্যকর নয়।

 

 

তহবিল ও গবেষক হ্রাস এবং  বেতন স্কেলের জন্য  রোমের মর্যাদাপূর্ণ লিন্সিয়ান একাডেমিও ভোগান্তিতে পড়েছেন। এমনটাই জানান এর প্রধান রবার্তো আন্তোনেলি। বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালীয় গবেষণা সুবিধাগুলির জন্য তহবিলের একটি বিশাল সংকটময় সময় অতিক্রম  করছে দেশটি জানান তিনি।

এসব কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় ইতালিতে তরুণদের গবেষণা উপলব্ধ জ্ঞান ও পদের মান হ্রাস পেয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে।বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপকের সংখ্যা এবং দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির সংখ্যা ২০০৯ সালে ৬০,৮৮২টি থেকে, ২০১৬ সালে ৪৮,৮৭৮ টিতে 
নেমে এসেছে, যা প্রায় ২০ শতাংশের কম, অথচ ছাত্র ছাত্রী বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

 

বেতন এবং গবেষণা বাজেট বৃদ্ধি পেলে একদিন পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে নিয়ে ফিরে আসবেন ইতালিয়ানরা এমনটাই মনে করেন নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী প্যারিসি।

 

ইতালীয় সরকার এখন থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে পাওয়া অর্থ মহামারী পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের তহবিলের সঙ্গে কিছু গবেষণায় ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যা অতিরিক্ত বর্ধিত গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হবে।

 

গবেষণা মন্ত্রী ক্রিস্টিনা মেসা গত অক্টোবরে  ৬০ টি প্রকল্পের জন্য ছয় বিলিয়ন ইউরো তহবিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গবেষণাকে ধারাবাহিক ভাবে এগিয়ে নিতে অবশ্যই একটি দেশের জিডিপির শতাংশে পরিমাপ করে ব্যবহার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ফিনল্যান্ড, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।

 

ইতালির মতো উন্নত দেশে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে গবেষণা ব্যয়। জার্মানির ও ফ্রান্সে মতো প্রতিবেশী দেশের তুলনায় ইতালির গবেষণা তহবিলে বিনিয়োগ অনেক কম।

 

ইউরোপীয় সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুসারে, ইতালি ২০১৯ সালে গবেষণায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১,৪৫ শতাংশ ব্যয় করেছে । ইইউ দেশগুলোর গড় ব্যয় ২.১৯ শতাংশ এবং জার্মানির ৩.১৭ শতাংশ।

 

নোবেল জয়ী প্যারিসি দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন “গবেষণা হল একটি সবজি বাগানের মতো, আপনি যদি তাতে প্রতি পাক্ষিকে জল দিতে পারেন ফলনও আশানুরূপ পারেন।”
 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *