স্যামসাংয়ের ট্যাব কিনতে মরিয়া বিবিএস! | বাণিজ্য

স্যামসাংয়ের ট্যাব কিনতে মরিয়া বিবিএস! | বাণিজ্য

<![CDATA[

আবারও বিতর্কের তুঙ্গে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার বেশি খরচ করে চার লাখ ট্যাব কিনতে প্রতিষ্ঠানটির ইচ্ছায় আবারও ভাটা পড়ল। প্রস্তাবটি দ্বিতীয়বারের মতো ফেরত পাঠিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ট্যাব ক্রয় বাদে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৫টি ক্রয় প্রস্তাব।

যদিও বারবার কেন এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্ন ছিল প্রকল্প পরিচালক কবীর আহাম্মদ খানের কাছে। তবে কমিটির সদস্য না হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে দায় নিতে নারাজ তিনি। তার দাবি, ট্যাবের মান দেখেই ধরা হয়েছে দাম। এই প্রস্তাবনায় সংশোধনী এনে তা আগামী সপ্তাহে আবারও ক্রয় কমিটির সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

আদমশুমারি থেকে নাম বদলে এই প্রকল্পের নাম এবার দেওয়া হয়েছে জনশুমারি ও গৃহগণনা। যদিও প্রকল্পটি সাতদিনের, তবে এর কেনাকাটা চলছে প্রায় দুই বছর ধরে। সেই সঙ্গে সমানতালে চলছে বিতর্কের ঝড়। এবার যার কেন্দ্রে প্রায় ৪ লাখ ট্যাব ক্রয় নিয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরোর অনড় অবস্থান।

জানা গেছে, আরডিপিপি এর ট্যাবলেট স্পেসিফিকেশন অংশে এমডিএম সফটওয়্যার বাধ্যতামূলকভাবে থাকতেই হবে, এটি উল্লেখ করা থাকলেও ডিপিপি পরিবর্তন না করে, ক্লাউড কন্ট্রোলিং এর মাধ্যমে এমডিএম ব্যবহারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দরপত্রে সর্বোচ্চ দরদাতা ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড ডিপিপির ঐ শর্ত পূরণ করতে সক্ষম না হওয়ার সত্বেও টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদনবিহীন পুনঃদরপত্রের নিয়ম বদলে প্রতিষ্ঠানটিকে রেস্পনসিভ হিসাবে দেখিয়ে সুপারিশ আকারে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠায় পরিসংখ্যান ব্যুরো।

আরও পড়ুন: ডলারের দাম চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল: অর্থমন্ত্রী

যদিও দরপত্রে অংশগ্রহণকারী অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান ডিপিপি এর শর্তানুযায়ী, বাতিল করা দরপত্র ও পুনঃদরপত্রের সকল শর্ত পূরণ করে সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ার পরও তাদেরকে দুই দফায় দেখানো হয়েছে নন রেস্পন্সিভ হিসেবে।

আবার পুনঃদরপত্রে টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদন ছাড়াই নতুন করে ১৩টি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যার কয়েকটির মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে নন রেস্পন্সিভ হিসাবে দেখানো হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক সময় সংবাদের কাছে দাবি করেছেন, ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স দেশেই ট্যাব তৈরি করছে। তাদের টেকনিক্যাল ও ইভ্যালুয়েশন কমিটি দুইবার সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছেন। মান দেখে সন্তুষ্ট হয়েই তারা ট্যাব ক্রয়ে ফেয়ার ইলেকট্রনিক্সকে বেছে নিয়েছেন। তারপরও কি কারণে বারবার ফেরত দেওয়া হচ্ছে, তা কমিটির সদস্য না হওয়ায় তিনি জানেন না বলেও মন্তব্য করেছেন।

সর্বনিম্ন দরদাতাকে রেখে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছ থেকে ট্যাব কিনতে বিবিএস উঠেপড়ে লেগেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এই প্রতিবেদককে তিনি প্রশ্ন করেন, আপনি নিশ্চয়ই আইফোনের সঙ্গে স্যামসাংয়ের তুলনা করবেন না?

আরও পড়ুন: সৌদি খেজুর চাষে সারা বছর ঋণ মিলবে

এর আগে একবার ফেরত পাঠানোর পর আবারও অনুমোদন দেওয়া হয়নি প্রস্তাবটি। এখানে বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, এমন ধারণার প্রতিফলনই দেখা গেল সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায়।

বিবিএস চাচ্ছে ৫৩৭ কোটি ১২ লাখ টাকায় স্যামসাং এর ট্যাব কিনতে। অথচ এই দরপত্রে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার কম প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়ালটন। যা ক্রয় কমিটির মনমতো না হওয়ায়, প্রস্তাবটি এক মাসের মাথায় ফেরত গেল দ্বিতীয়বার।

এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চান না উল্লেখ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে আগামী সপ্তাহে আবারও ক্রয় কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে বিবিএসকে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় সভায় মাত্র ১১ কোটি ৬১ লাখ টাকা কমিয়ে প্রতিটি ট্যাবের দাম ১৩ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করে বিবিএস প্রস্তাবটি কমিটিতে পাঠায়। এটিতে সন্তুষ্ট নয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

মূলত, খরচ কমাতে গত ২৫ আগস্ট এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে ক্রয় কমিটি পুনরায় দরপত্র আহ্বান করলে জমা পড়ে তিনটি দরপত্র। এর আগেও অন্য এক প্রকল্পে ১৫ হাজার ট্যাব ক্রয় করতে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৯৮৫ টাকায় স্যামসাং এর ট্যাব ক্রয় করে বিবিএস।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *