শীতে কাঁপছে নীলফামারী | বাংলাদেশ

শীতে কাঁপছে নীলফামারী | বাংলাদেশ

<![CDATA[

পৌষের কনকনে শীতে কাবু হয়ে পড়েছে উত্তরের জেলা নীলফামারীর মানুষ। ঘন কুয়াশা আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় গত কয়েকদিন থেকে দেখা মেলেনি সূর্যের। সেই সাথে বইছে হিম বাতাস। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন। এছাড়া শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে বয়স্ক ও শিশুরা।

উত্তর জনপদের শীত প্রধান এলাকা নীলফামারী। হিমালয়ের পাদদেশের শহর হওয়ায় এমনিতেই এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি থাকে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শীতের তীব্রতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।

রংপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, তাপমাত্রার পারদ উঠানামা করছে ১০.০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৪.০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে বয়ে যাবে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। থাকবে ঘন কুয়াশা। বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৯৯ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া ১-২ দিনের মধ্যে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও হতে পারে।

আরও পড়ুন: ঘন কুয়াশা ও শীতে পঞ্চগড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

এদিকে জেলায় শীতার্তদের হাতে পৌঁছায়নি শীতবস্ত্র। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ। আর হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে পেটের তাগিদে কর্মের সন্ধানে বের হচ্ছেন শ্রমজীবীরা। শীতের দাপটে কাজে যেতে না পারায় বন্ধ হয়ে গেছে তাদের আয় রোজগার।

তবে সরকারিভাবে শীতার্তদের জন্য ৩০ হাজার কম্বল ও ৫০ লাখ টাকা বিতরণ করবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

জেলার ৬টি হাসপাতালে আউটডোর আর ইনডোরে বেড়েছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালে শিশুকে নিয়ে ভর্তি থাকা হাসিনা বেগম, নাজিয়া সুলতানা ও ফারজানা আক্তার বলেন, গত এক সপ্তাহ থেকে এখানে প্রচণ্ড শীত পড়ছে। শীতের কারণে বাচ্চারা সর্দি কাশি জ্বর ও ডায়রিয়াতে ভুগছে। তাই হাসপাতালে ভর্তি করেছি।

পরচুল তৈরি কারখানার নারী শ্রমিক নাসিমা, হাবিবা, তাসলিমা, ঝরনা অধিকারী, লিপিরানী বলেন, শীতের কারনে ভোর ৫টায় উঠে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে খুবই কষ্ট হয়। সকালে কুয়াশার কারনে ভ্যান ও পাওয়া যায় না। ফলে শীতে আমাদের কষ্ট বেশি।

রিকশা চালক সৈয়দ আলী, ভ্যান চালক নজরুল ইসলাম, আটোরিকশা চালক খাদেম হোসেন বলেন, কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার কারনে সকালে গাড়ি নিয়ে বের হতে কষ্ট হয়। হাতে পায়ে ঠাণ্ডা লাগে। পেটের দায়ে বের হলেও যাত্রীর অভাব। আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

হাসপাতালের নার্স মাহবুবা হেনা বলেন, রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। প্রতিদিন ইনডোর আউটডোরে শতশত বিভিন্ন বয়সী শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী আসছে।

আরও পড়ুন: শীতের পিঠা বিক্রি করে চলে হাসিনার সংসার

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে আউটডোর ও ইনডোরে প্রতিদিন আড়াই থেকে ৩০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আব্দু রহিম। তিনি বলেন, শীত বৃদ্ধির কারনে শীতজনিত রোগে বিভিন্ন বয়সী মানুষেরা আক্রান্ত হচ্ছে।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *