শহীদ পিতার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির অপেক্ষায় রেজাউল | শিক্ষা

শহীদ পিতার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির অপেক্ষায় রেজাউল | শিক্ষা

<![CDATA[

বরিশাল বিদ্যালয়ের একজন নিরাপত্তাকর্মী মো. রেজাউল খলিফা। ৫০ বছর হয়ে গেছে তিনি বাবাকে হারিয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেও তার বাবা মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি পাননি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে রেজাউল খলিফার বাবা কনস্টেবল হারুন-অর-রশিদ কর্মরত ছিলেন রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে। যার কনস্টেবল নং ছিল-১১৫৬। পাক হানাদার বাহিনী রাজারবাগে প্রথম আক্রমণ শুরু করলে প্রথম বুলেট যাদের বুক ভেদ করে এ দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস তৈরি হয় তারই মধ্যে একজন ছিলেন রেজাউলের বাবা। তিনি বাবাকেও হারালেন আর এখন অশ্রু দিয়ে চাইছেন তার স্বীকৃতি।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ যারা’ শিরোনামের নাম ফলকে রেজাউলের বাবা মো. হারুন-অর-রশিদের নাম রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উপপরিষদ প্রকাশিত ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ’ নামক স্মরণিকার ৩২ নং পৃষ্ঠার ৩১ নং ক্রমিকে রয়েছে কনস্টেবল মো. হারুন-অর-রশীদের নাম।
 

এখানেই শেষ নয়, রেজাউলের পিতা মো. হারুন-অর-রশিদকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে প্রত্যয়ন দিয়েছিল নলছিটি উপজেলা কমান্ডার। এ ছাড়া ২০১৭ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর প্রতিষ্ঠা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার) পিপিএম তার প্রত্যয়নপত্রেও বিষয়টির সত্যতা প্রকাশ করেছেন।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) থেকে চিঠির মাধ্যমে রেজাউলকে বিভিন্ন সময় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ডাকা হলে তিনি বাবার পক্ষে একমাত্র উত্তরাধিকার হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হলেও চূড়ান্ত বাছাইয়ের সময় বিপত্তি তৈরি হচ্ছে পুলিশের গেজেট নিয়ে। সর্বশেষ তার কাছে পুলিশের গেজেট চাওয়া হলে সেটি শিক্ষাগত জ্ঞান না থাকায় এবং পুলিশ হেড কোয়াটার্স কর্তৃক পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশিত না হওয়ায় সেটি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: বিদেশে উচ্চশিক্ষার সব তথ্য এখন অ্যাপে
 

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের হিসাব অনুযায়ী পূর্ব পাকিস্তানে পুলিশের ৩৩ হাজার ৯৯৫ জন সদস্য কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার পুলিশ সদস্য পাকিস্তান সরকারের আনুগত্য অস্বীকার করে কর্মস্থল ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। আর মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে শহীদ হন ১ হাজার ১০০ এর বেশি পুলিশ সদস্য।
 

এ ছাড়া বহু পুলিশ সদস্য আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। নির্মম নির্যাতনের শিকার হন অনেকে। তাদের কিছু নাম বিভিন্ন সময় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে বেশিরভাগ সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি শহীদদের তালিকায়। কারণ বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের রিজার্ভ অফিসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আগুন লাগিয়ে দিলে তথ্য পুড়ে যাওয়ায় প্রকৃত তথ্য ও সংখ্যা উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
 

এ বিষয়ে রেজাউল খলিফা বলেন, আমার বাবা ২৫ মার্চ কালরাতে ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে অন ডিউটি থাকাকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। এমন কী আমার বাবার লাশটাও আমি পাই নাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন আমার বাবার স্বীকৃতি চাই যে আমার বাবা ‘মুক্তিযোদ্ধা’। এ দেশের জন্য তিনি জীবন দিয়ে গেছেন। আমি আমার বাবার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করছি।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *