লোকবল সংকটে মৌলভীবাজার প্রাণিসম্পদ বিভাগে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত | বাংলাদেশ

লোকবল সংকটে মৌলভীবাজার প্রাণিসম্পদ বিভাগে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত | বাংলাদেশ

<![CDATA[

দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় লোকবল সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যায় মৌলভীবাজার জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলায় প্রাণিসম্পদ বিভাগে সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। পশু পালনকারীরা সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে ক্ষুব্ধ। তবে লোকবল সংকটসহ প্রয়োজনীয় সমস্যা সমাধানের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিত আবেদনের কথা বললেন জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা।

আর্থিকভাবে দ্রুত লাভবানের ফলে গত কয়েক বছরে মৌলভীবাজার জেলায় হাঁস, মোরগ, গবাদিপশু পালন, খামারি ও খামারের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব প্রাণীর সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবায় এখনো জেলার পুরনো সাতটি প্রাণিসম্পদ বিভাগের ওপরই পশু পালনকারীদের নির্ভর করতে হচ্ছে। শীত মৌসুম চলে আসায় গবাদিপশুদের ঠাণ্ডাজনিত রোগ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, পাতলা পায়খানা ও পিপিআরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে এসব হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, প্রতিদিন অর্ধশত পশু চিকিৎসা নিলেও প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার ৬০০ গৃহপালিত প্রাণীর চিকিৎসা দেওয়া হয়। এসব গৃহপালিত প্রাণীদের সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা দিতে মৌলভীবাজার সদরসহ সবকটি উপজেলার চিকিৎসকসহ মোট পদ রয়েছে ৯৮টি। এর মধ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জনসহ বিভিন্ন অফিসার পদের সংখ্যা ২২টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন অফিসার। বাকি ১১টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। একইভাবে ৭৬টি সাধারণ কর্মচারী পদের মধ্যে অধিকাংশ পদই শূন্য।

এ ছাড়া ৫০ শতাংশ খামারি-অধ্যুষিত বড়লেখা, কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলায় ভেটেরিনারি সার্জনের পদ শূন্য- অনেক আগ থেকেই। অপরদিকে নতুন পোস্টিং পাওয়া গেলেও কক্ষ সংকটে বসার স্থান নেই জেলার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার। আর অপারেশন থিয়েটার না থাকায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের গাছতলাই হচ্ছে অপারেশনের স্থান। এতে নানাভাবে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার পশু পালনকারীরা।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের কন্যাশিশুদের শিক্ষায় ব্রিটিশ সরকারের ৫৪ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রকল্প

কথা হয় একাধিক চিকিৎসা নিতে আসা পশুপালনকারী কয়েকজনের সঙ্গে। তারা জানালেন, সেই সকাল থেকেই তাদের গৃহপালিত পশু নিয়ে এসে হাসপাতালের মাঠে বসে আছেন। সঠিক সময়ে ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, যে কজন চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন, তাদের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। লোকবল সংকটে সঠিক চিকিৎসা তারা পাচ্ছেন না।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভ্যাটেরিনারি সার্জন ডা. আ জ ম সালাহউদ্দিন সময় সংবাদকে জানান, অধিক লাভজনকের কারণে গৃহপালিত পশুর সংখ্যা ক্রমগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে রয়েছে এদের রোগবালাই। এতে এসব হাসপাতালগুলোতে প্রতি মুহূর্ত চাপ বাড়ছে। তার দাবি, ভেটেরিনারি এ চিকিৎসাকে জরুরি সেবার আওতাভুক্ত করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

অপরদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো.আব্দুস ছামাদ একাধিক পদ শূন্য থাকার কথা স্বীকার করে বললেন, কম লোকবল দিয়েও সাধ্যমতো তারা চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, হাঁস, মুরগিসহ জেলায় খামারির সংখ্যা ৫ হাজার ৩৬২টি। আর গৃহপালিত পশুর (হাঁস, মোরগসহ) সংখ্যা এক কোটি ১৯ লাখ।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *