মেগা অবকাঠামো প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায় ভারত | আন্তর্জাতিক

মেগা অবকাঠামো প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায় ভারত | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

নিজেদের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে অবকাঠামো খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর ভারত। আর সেই লক্ষ্যে ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার পাইপলাইন বা (এনআইপি) প্রোগ্রাম চালু করেছে দেশটি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৯ সালে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের সময় ১১০ লক্ষ কোটি টাকার (১.৫ ট্রিলিয়ন) মূলধন দিয়ে প্রথম এনআইপি কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল, নাগরিকদের জন্য বিশ্বমানের অবকাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান ও উন্নয়ন। যেখানে মোট ৭ হাজার ৪০০টি প্রকল্প রয়েছে!

ভারতের অর্থনীতি নিয়ে করা সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বেসরকারি খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশটির অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগী ভারত সরকার। আর তাই আগামী কয়েক বছর দেশটির অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আর সেই লক্ষ্যে ২০১৯-২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে এনআইপি সেই প্রকল্পের প্রস্তুতি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন : উইঘুর মুসলিমদের লিভার-কিডনি চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশাল এই অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ভারত যেমন বিপুল বৈদেশিক বিনিয়োগ পাবে সেই সঙ্গে অবকাঠামো নির্মাণেও তাদের বিপুল অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। সেই সঙ্গে এই প্রকল্পের অধীনস্থ অবকাঠামোগুলো যখন বিক্রি হওয়া শুরু হবে তাতে দেশটির অর্থনৈতিক সূচকে একটা উল্লম্ফন দেখা যাবে। ফলে, তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আরও আরও বেড়ে যাবে। উন্নয়নশীল দেশের কাতার থেকে উন্নত দেশের সোপানে দাঁড়াতে ভারতের জন্য তা অত্যাবশকীয়। এ ছাড়া আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতির আকার ৫ ট্রিলিয়নে নিতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ষাটের দশকের পর থেকে ভারতের বিভিন্ন খাতে বেসরকারি কোম্পানির আগমন ঘটে। যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দেশটির অর্থনৈতিক সূচককে পাল্টে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির সড়ক ও রেলওয়ে প্রকল্প বেসরকারি করণের মাধ্যমে ১.৬ লাখ কোটি টাকা নগদীকরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার। যদিও সড়ক ও যোগাযোগ খাত বেসরকারি খাতে দেওয়ার বিরোধিতা করছে দেশটির বিরোধী দল। বিনিয়োগে পূর্ণতা দিতে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য বেসরকারি খাতকে অঙ্গীভূত করায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সেই সাথে আধা-শহুরে ভারত উচ্চ প্রযুক্তির শহুরে রূপান্তরিত হবে। বেসরকারি খাতে সরকারের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সহায়তা করবে। এ ছাড়া প্রকল্পগুলির গুণগতমান, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার সার্বিক দায়িত্বও এই খাতের অধীনে থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন : তালেবান ক্ষমতা দখলের পর অস্থিরতা বেড়েছে পাকিস্তানে

শেষ কথা হলো- বিশ্বব্যাপী ‘মেইড ইন ইন্ডিয়া’ ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতকে সবার আগে অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। ভবিষ্যতে ভারত কতদূর আগাবে তা নির্ভর করবে তার এই ভিত্তির ওপর। ভারত যেভাবে সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিতভাবে বিশাল এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আগামীতে দিল্লি যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের নেতৃত্ব দিবে, সেটা অনেকটাই পরিষ্কার। আর সেই সম্ভাবনাকে আরও বেশি অর্থবহ করেছে ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়ণ এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যার উল্লম্ফন।

 

 

 

 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *