মৃত্যুর মুখে করোনা নিয়ে প্রথম সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিক ঝ্যাং | আন্তর্জাতিক

মৃত্যুর মুখে করোনা নিয়ে প্রথম সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিক ঝ্যাং | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

মরণাপন্ন অবস্থায় পৌঁছে গেছেন চীনের কারাগারে বন্দী দেশটির সাংবাদিক ঝ্যাং ঝান। উহানের করোনাভাইরাস নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন করায় গত বছর তাকে গ্রেপ্তার করে চীনা প্রশাসন। গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে টানা অনশন করে আসছিলেন তিনি। ফলে, তার শারীরিক অবস্থার এতাটাই অবনতি হয়েছে যে, তার পরিবারের দাবি- তিনি যে কোনো সময়ে মারা যেতে পারেন।

রেডিও ফ্রি এশিয়ার (আরএফএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৭ বছর বয়সী ঝ্যাং ঝানকে গত বছরের মে মাসে আটক করা হয়। তারপর এর প্রতিবাদে তিনি কয়েক মাস অনশন করেন। এতে তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি হয়।

তার এক আইনজীবী বলেছেন, সাক্ষাতের সময় ঝ্যাং তাকে বলেছেন, তাকে জোর করে টিউবের মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। ঝ্যাং মাথাব্যথা, মাথাঘোরা এবং পেটের সমস্যায় ভুগছেন। তার এখন বাথরুমে যেতে হলেও অন্যের সহয়তা প্রয়োজন।

এদিকে, ঝ্যাংয়ের ভাই ঝাং জু এক টুইটবার্তায় বলেন, ৫.৮ ফুট লম্বা হওয়া সত্ত্বেও ঝ্যাংয়ের ওজন নির্ধারিত ওজনের চেয়ে অন্তত ৪০ কেজি কমে গেছে। আমি মনে করি না সে আর বেশিদিন বাঁচবে। আগামী শীতের আগেই যদি তাকে ছেড়ে দেওয়া না হয়, আমি আশঙ্কা করছি, বিশ্ব তাকে মনে রাখবে যে, সে একসময় বেঁচে ছিল।

আরও পড়ুন : করোনা: ‘চীনের হুবেই গুহা ও বন্যপ্রাণীর খামারগুলোতে গভীর তদন্ত প্রয়োজন’

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, চীনে কোনো মিডিয়াই স্বাধীন নয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে চীন সরকারের সমালোচনা বা সরকারের মর্যাদা খর্ব হয় এমন কোনো প্রতিবেদন তৈরি করলেই দেশটির শাসকদের রোষানলে পড়তে হয় সাংবাদিকদের। 

জানা গেছে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে করোনাভাইরাস নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে উহান সফরে যান ঝ্যাং। সেখান থেকে তিনি যেসব প্রতিবেদন করেছেন তা ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার হয়েছে। ফলে চীন কর্তৃপক্ষের বাঁকা চোখে পড়ে যান তিনি।

নেটওয়ার্ক অব চাইনিজ হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারর্স (সিএইচআরডি) নামের এনজিও বলেছে, নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের আটক রাখার বিষয়েও তিনি প্রতিবেদন করেছিলেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে যে হয়রানি করা হচ্ছে, তা নিয়েও তিনি প্রতিবেদন করেন।

আরও পড়ুন : পানযোগ্য একফোঁটা পানিও নেই বেলুচিস্তানের গন্ধাখায়

এর কয়েক মাস পর ১৪ মে উহান থেকে তিনি নিখোঁজ হন। একদিন পরে পুলিশ তাকে উহান থেকে ৪০০ মাইলেরও বেশি দূরে সাংহাইয়ে আটক দেখায়। তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন হয় নভেম্বরের শুরুর দিকে। এতে অভিযোগ করা হয় যে- তিনি টেক্সট মেসেজ, ভিডিও ও অন্যান্য বিষয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইচ্যাট, টুইটার এবং ইউটিউবের মতো প্লাটফর্মে। এ ছাড়া তিনি বিদেশি মিডিয়ার কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এসবের মাধ্যমে উহানে করোনাভাইরাস সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছেন। এ জন্য তার চার থেকে ৫ বছরের জেল সুপারিশ করা হয়।

অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ঝ্যাং অনশন শুরু করেন। এতে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। তার আইনজীবী বলেছেন, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ঝ্যাং। তার কাছে প্রতিটি দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। তার স্বাস্থ্যগত কারণে বিচার স্থগিত রাখার জন্য আবেদন করেছিলেন তারা। কিন্তু সেদিকে চীনা প্রশাসন কোনো কর্ণপাত করেনি। এভাবে চলতে থাকলে ঝ্যাং ঝান যে কোনো সময়ে মারা যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *