মঙ্গলের বুকেই হারাবার প্রস্তুতিতে এলিসা | বিনোদন

মঙ্গলের বুকেই হারাবার প্রস্তুতিতে এলিসা | বিনোদন

<![CDATA[

মানুষ মাত্রই স্বপ্ন দেখে। কেউ জীবনকে গুছিয়ে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায়, আবার কেউ বা স্বপ্ন দেখে জীবনে ভিন্ন কিছু করে তাক লাগিয়ে দেওয়ার। তবে আজ এমন একজনের কথা বলব, যার স্বপ্ন আর দশ জনের মতো নয়, একেবারেই ভিন্ন। তিনি হলেন এলিসা কার্সন।

২০ বছর বয়সেই তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন পৃথিবী থেকে মহাবিশ্বে হারিয়ে ফেলার জন্য। কবি সুকান্ত চেয়েছিলেন পৃথিবীর বুকে আঠারো আসুক নেমে। কিন্তু, এলিসা কার্সন পৃথিবীর বুক থেকেই যে হারিয়ে যেতে চায় আঠারো বছর বয়সেই।

পৃথিবীতে নেমে আসা নয়, মঙ্গলের বুকেই হারাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এলিসা। যদিও, মঙ্গলের পথে একমুখী যাত্রা এখনই শুরু হবে না, এই না ফেরার যাত্রা কিংবা নতুন গ্রহে পদার্পণ ২০৩৩ সালে। তখন তার বয়স হবে ৩২।  তবে এই জন্যে তাকে নিতে হয়েছে বেশ কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত।

নাসার মঙ্গলের অভিযানে যাওয়ার পর পৃথিবীতে আর ফেরা হবে কী না, কেউই বলতে পারে না। তার আর নাও ফেরা হতে পারে। এই সত্যও মেনে নিয়েছেন এলিসা। ফলে তাকে কিছু শর্তে মেনে নিতে হয়েছে। নাসার সাথে সে একটি নিষেধাজ্ঞাপত্রে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে, সে বিয়ে করতে পারবে না। কোনো প্রকার যৌন সম্পর্ক কিংবা সন্তান ধারণের মতো কোনো কাজ করবে না সে। এই বয়সী একটি মেয়ের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিনই বটে। পুরো জীবনই তার সামনে পড়ে আছে। তবুও তার এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া।

আরো পড়ুন: ১১৭১ সন্তানের জনক হয়ে গিনেসে ইসমাইল ইবনে শরীফ

নাসার সবচেয়ে ছোট্ট সদস্য এলিসা। নাসাতে সাধারণত ১৮ বছর হবার আগে কাউকে নভোচারী হবার সুযোগ দেয় না। তবে এলিসার নাসার এই যাত্রার শুরুটাও কিন্তু অন্যরকম। এলিসার বয়স যখন ৯ তখন নাসার এক মহাকাশচারী সান্ড্রা ম্যাগনাসের সঙ্গে তার দেখা হয়। সান্ড্রা তাকে জানিয়েছিলেন ছোটবেলাতেই তিনি মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। এই কথা ছোট্ট এলিসার চোখে মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন আরো গাঢ় করেছিল। ১২ বছর বয়সে এলিসা সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে আলবামা, কানাডার কুইবেক ও তুরস্কের ইজমিরে নাসার তিনটি ভিন্ন স্পেস ক্যাম্পে অংশ নেয়।  
 

আরো পড়ুন: ভিক্ষুক থেকে রাতারাতি জনপ্রিয় মডেল তিনি

মহাকাশ সম্পর্কে তার অগাধ কৌতুহলের জন্ম হয়। মহাকাশচারী সান্ড্রার সহযোগিতা তাকে নিজের জীবনের লক্ষ্য নতুন করে চিনতে শিখিয়েছে। এ কারণেই হয়ত, এই গ্রহের ওপারে যে রহস্য, মঙ্গলজয়ের যে বাসনা, বিজ্ঞানীদের অনবরত যে চেষ্টা তাতে সে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছে। তিন বছর বয়সে ‘দ্যা ব্যাকইয়ার্ডিগানস’ কার্টুন দেখে মহাকাশ সম্পর্কে যে আগ্রহের জন্ম হয়েছিল, বেঁচে থাকলে আর এক যুগের কিছু সময় পর এলিজা সেই স্বপ্নের ভ্রমণে যাবেন। সে লক্ষ্যেই নিজেকে প্রস্তুত করছেন। ট্রেইনিং নিচ্ছেন, বিভিন্ন স্কিল শিখছেন। বর্তমান টিনএজ তরুণ-তরুণীরা যেখানে মগ্ন থাকেন সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে, সেখানে এলিসা স্বপ্ন দেখেন মঙ্গল জয়ের। অতি রশ্নির ঝলক তাকে কখনই টানতে পারেনি বরং তিনি চলছেন ভিন্ন এক স্বপ্ন নিয়ে। 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *