ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বপ্নভঙ্গ পাঁচ শতাধিক পুলিশ কনস্টেবল প্রার্থীর! | বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বপ্নভঙ্গ পাঁচ শতাধিক পুলিশ কনস্টেবল প্রার্থীর! | বাংলাদেশ

<![CDATA[

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেইনি রিক্রুট পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীদের সঙ্গে স্মার্ট কার্ড না থাকায় অন্তত পাঁচ শতাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক পর্যায়ে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ আর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাদ পড়া প্রার্থীরা।

রোববার (১৪ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে জেলা পুলিশ লাইন্সে বাছাই পর্ব শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই পরীক্ষা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আজ সকাল ৮টা থেকে ট্রেইনি রিক্রুট পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষার শুরুতে বাছাই পর্বে প্রার্থীদের সঙ্গে স্মার্ট কার্ড না থাকার অজুহাতে অন্তত পাঁচ শতাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে বাদ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগ পর্বে স্মার্ট কার্ডের বিষয়টি উল্লেখ ছিল না বলে জানান বাদ পড়া একাধিক পুলিশ কনস্টেবল প্রার্থী।

আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগর এলাকার বাসিন্দা জয়দেব বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে এসেছিলাম। পরীক্ষা দিতে আসার পর স্মার্ট কার্ড আছে কি না জিজ্ঞেস করেন একজন কর্মকর্তা। পরে ওনাকে অনলাইন কপি দেওয়ার পর আমার প্রবেশপত্রে অযোগ্য সিল দিয়ে বের করে দিয়েছেন। কেনো বের করা হচ্ছে জিজ্ঞেস করার পর খারাপ ব্যবহার করে বলেন যে, আমার স্মার্ট কার্ড নেই।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিয়োগপত্রে কোথাও লেখা নেই যে স্মার্ট কার্ড আনতে হবে। শুধু উল্লেখ ছিল এনআইডি কার্ডের মূল কপি সঙ্গে আনতে হবে। আর সেটা যদি না থাকে, তাহলে মা-বাবার এনআইডি কার্ডের মূল কপি নিয়ে আসতে হবে।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কদমতলী গ্রামের ইমান মিয়া জানান, আমার কাছে এনআইডি আছে, স্মার্ট কার্ড নেই। এই কথা বলার পর আমাকে অযোগ্য ঘোষণা করে পুলিশ লাইন থেকে বের করে দেয়।

আবেগাপ্লুত হয়ে ইমন বলেন, বাবা-মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল পুলিশ হব। জনগণের সেবা করব। আজ শুরুতেই সে স্বপ্ন গুড়েবালি হয়ে গেল।

আরও পড়ুন: নাটোরে চাকরিপ্রার্থীর টাকা উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিল পুলিশ

একই অভিযোগ করেন সরাইল উপজেলা থেকে আসা সৌরভ সরকার ও অপু দাস। তারা বলেন, এত কষ্ট করে পরীক্ষা দিতে আসছি। কিন্তু স্মার্ট কার্ড না থাকার কারণে আমাকে অযোগ্য বলে গণ্য করছে। আমার তো স্মার্ট কার্ড নেই, আমাদের এলাকায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়নি।  তাহলে আমরা স্মার্ট কার্ড দেব কোথা থেকে।

এছাড়া কসবা উপজেলার বাসিন্দা গোপীনাথপুর গ্রামের জহির খানের ছেলে ইয়ার খান, নবীনগর উপজেলার জমির হোসেনের ছেলে রহমত উল্লাহসহ আরো অনেকে একই অভিযোগ করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, বিষয়টি সঠিক নয়। অনেকের কাছে এনআইডির ফটোকপি ছিল। আবার অনেকের কাছে ছিল না। আবার বাদ পড়ার পর অনেকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে নানা ওজর-আপত্তি করছে। তাদের অভিযোগ সঠিক নয়। কয়েক ধাপে বাছাই পর্বে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও ঢাকা থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেইনি রিক্রুট পুলিশ কনস্টেবল পদে ৫০ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারীসহ মোট ৫৯ জনকে নিয়োগ করা হবে।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *