বেনাপোল রেলস্টেশনে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত | বাংলাদেশ

বেনাপোল রেলস্টেশনে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত | বাংলাদেশ

<![CDATA[

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন সংক্রমণ রোধে সরকারের নানান নির্দেশনা থাকলেও সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই বেনাপোল বন্দরের রেলপথে যাত্রী যাতায়াত ও বাণিজ্যে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও রেল কর্তৃপক্ষেরও কোনো তদারকি না থাকায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মাস্ক ছাড়া চলাফেরা করছে যাত্রীরা। স্টেশনে স্বাস্থ্য বিভাগের স্ক্যানিং বুথ থাকলেও নেই কোনো কার্যক্রম। এতে সংক্রমণ বিস্তারের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

গত বছর সংক্রমণ বেড়ে গেলে এ রুটে রেলে যাত্রী পরিষেবা ও আমদানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্নভাবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি সচেতন যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের।

জানা যায়, বর্তমানে এ পরিস্থিতির মধ্যে বেনাপোল বন্দরের সড়ক পথের পাশাপাশি রেলপথে ভারতের সঙ্গে আমদানি বাণিজ্য চালু রয়েছে। প্রতিদিন পণ্যবাহী রেল বন্দরে ঢুকছে। এপথে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে চলছে যাত্রীবাহী একাধিক রেল। বর্তমানে ব্যবসা ও চিকিৎসার কাজে ভারত ভ্রমণে স্টেশনে দেশি-বিদেশি শত শত মানুষের সমাগম হচ্ছে। যাত্রী যাতায়াত ও বাণিজ্য সচল রাখতে সংক্রমণ রোধে সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে। তবে সড়ক পথে বাণিজ্য ও যাত্রী যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা দেখা গেলেও রেলপথে কোনো ধরনের সুরক্ষা নেই। নিরাপত্তা কর্মীদের সামনেই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মাস্ক ছাড়া চলাফেরা করছেন যাত্রীরা। করোনা সংক্রমণ রোধে গত বছরে স্টেশনে যাত্রী ও পণ্য বহনকারী রেলের চালক ও তাদের সহকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা কাজ করলেও এখন তা বন্ধ রয়েছে। এতে সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ওমিক্রন ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

রেলযাত্রী শওকত জানান, ওমিক্রন নিয়ে আমরা আতঙ্কিত। রেলস্টেশনে শত শত মানুষের সমাগত হচ্ছে। ভারতীয়রা ও আসা যাওয়া করছে। এখানে কোনো স্বাস্থ্যবিধি নেই। অনেকেই মাস্ক পরে না। সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি কারো তদারকি নেই।  

সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী ওবাইদুর রহমান জানান, সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে গতবছরের মত রেল পরিসেবা বন্ধ হলে আবারও বড় ধরনের ক্ষতি আশঙ্কা রয়েছে।

বেনাপোল রেল স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, বর্তমানে ঢাকা-বেনাপোল রুটে যাত্রীবাহী বেনাপোল এক্সপ্রেস, খুলনা-বেনাপোল রুটে বেতনা এক্সপ্রেস ও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে কার্গো রেলে পণ্য আমদানি ও সরবরাহ হয়ে থাকে। এতে রেল চালকরা ও তাদের সহযোগীরা স্টেশনে আসছে। এছাড়া প্রতিদিন শত শত পাসপোর্ট যাত্রী সমাগম হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের দুটি স্ক্যানিং বুথ থাকলেও সেটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এখানে স্বাস্থ্য বিভাগের সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু থাকলে ভালো হয়।

আরও পড়ুন: জয়পুরে ভয়ঙ্কর ওমিক্রন আক্রান্ত একই পরিবারের ৯ সদস্য

শার্শা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইউছুপ আলী জানান, আগে যখন খুলনা-কলকাতা রুটে যাত্রী চলাচল করতো তখন স্টেশনে স্বাস্থ্য বিভাগের স্ক্যানিং বুথ বসানো হয়েছিল। বর্তমানে জনবল সংকটের কারণে আপাতত রেলস্টেশনে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি হলে আবারো সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে করা হবে।

নির্ভরযোগ্য তথ্য মতে, দেশে ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭২০ জন, মৃত্যু ৪৪২ জন। দুই সপ্তাহ আগে এর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ১৯৫ জন। সংক্রমণ বেড়েছে প্রায় ২২ গুণ। ওমিক্রনে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৩ জন।

গতকাল বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে গেছে ৩৫৮ জন, ভারতীয় যাত্রী বাংলাদেশে এসেছে ৯৪ জন। ওমিক্রনের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নানান কঠোরতায় কমেছে যাত্রী যাতায়াত।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *