বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে নৌকা ভ্রমণে নিয়ে খুন | বাংলাদেশ

বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে নৌকা ভ্রমণে নিয়ে খুন | বাংলাদেশ

<![CDATA[

স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের পর পুরনো প্রেমিক আমিরুলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান নরসিংদীর মেয়ে নিপা আক্তার ওরফে নিপা। সম্পর্কের জেরে গর্ভবতী হন তিনি। প্রেমিক চাপ দিলেও ভ্রূণ হত্যা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। প্রেমিক আমিরুল পরিকল্পিতভাবে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মেঘনা নদীতে নৌকা ভ্রমণে নিয়ে যায় নিপাকে। হত্যা করে ভাসিয়ে দেয় মৃতদেহ। বেশ কয়েকটি সংস্থার তদন্তের পর অবশেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) ধানমন্ডি পিবিআই সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদী জেলার (পিবিআই) পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান।

পিবিআই জানায়, নিপার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা থানার চরমধুয়া দড়িহাটিতে। ২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে রায়পুরা থানার চরমধুয়া ও নীলক্ষা এলাকার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদীতে নিয়ে হত্যা করা হয়। লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ায় তা পাওয়া যায় নরসিংদী মডেল থানার মেঘনা নদীতে। অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে অপমৃত্যুর মামলা করে পুলিশ। পরিচয় না পাওয়ায় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়। পরে কাপড় চোপড় দেখে লাশ শনাক্ত করেন নিপার পরিবারের সদস্যরা। পরে নিপার মা কোহিনুর নরসিংদী আদালতে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি পরে নরসিংদী জেলা পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অনুসন্ধান চালিয়ে পিবিআই তথ্যপ্রমাণ পায়, হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় আমিনুল ও তার তিন সহযোগী। এ ছাড়া আরও তিনজন হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করে। ঘটনার পরই আমিনুল বিদেশে পালিয়ে যান। চারজন জামিনে আছেন। অপর দু’জনের মধ্যে সুজন মিয়াকে ৮ নভেম্বর এবং জানুয়ারিতে জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের বাড়ি রায়পুরার চরমধুয়ায়।

সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদী জেলা পিবিআইর পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, আমিনুলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল নিপার। কিন্তু এ সম্পর্ক মেনে না নিয়ে নিপাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেয় তার পরিবার। তবে তার সেই সংসার টেকেনি। পরে আবার আমিনুল ও নিপার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের এক পর্যায়ে নিপা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এ সময় নিপা আমিনুলকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলেও আমিনুল রাজি ছিলেন না। এরপর আমিনুল তার সহযোগী সুজন মিয়া, জহিরুল ইসলামসহ অন্যদের নিয়ে নিপাকে বিয়ে করার কথা বলে গত বছরের ২৪ এপ্রিল মেঘনা নদীতে নৌভ্রমণে নিয়ে যান। সেখানে নিপাকে হত্যা করে লাশ নদীর চরে মাটি চাপা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। তারা নিপাকে মাঝনদীতে নিয়ে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ ও নৌকার কাঠ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ নদীর চরে মাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু নদীতে জেলেরা থাকায় তারা নিপার লাশ মাটি চাপা দিতে পারেননি। পরে লাশ মেঘনা নদীতে ফেলে দেন।

রও পড়ুন: ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

পিবিআই প্রধান কার্যালয়ের আইন ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ জানান, নিপার লাশ ভেসে ওঠার পর নরসিংদী সদর থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সেই লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

নরসিংদী সদর থানা-পুলিশ উদ্ধার করা লাশ ও আলামত হিসেবে জব্দ করা পোশাকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়। নিপার স্বজনেরা নরসিংদী সদর থানায় গিয়ে আলামত হিসেবে জব্দ করা পোশাক ও লাশের তোলা ছবি দেখে নিপার লাশ শনাক্ত করেন।

নিপার মা কোহিনুর বেগমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নরসিংদী আদালত রায়পুরা থানাকে হত্যা মামলা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। মামলায় নিপার প্রেমিক আমিনুল ইসলাম তার সহযোগী জহিরুল, সুজন মিয়াসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। সেই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় নৌ পুলিশ। পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পিবিআই নরসিংদী জেলা ওই মামলা তদন্তভার গ্রহণ করে।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *