ফ্রান্সে একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ শনাক্ত | আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ শনাক্ত | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন তাণ্ডব চালাতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ফ্রান্সে ১ লাখ ৪ হাজার ৬১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যা এখন পর্যন্ত দেশটিতে সর্বোচ্চ শনাক্ত।

শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
 

দেশটিতে করোনা সংক্রমণের এই পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত সরকার। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো ও তার সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে আলোচনায় করছেন।

ফ্রান্সে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের অনেকের শরীরে ‘ওমিক্রন’ ভ্যারিয়েন্টে শনাক্ত হয়েছে। একই সময় দেশটি মারা গেছেন ৮৪ জন।
 

করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ দশ দেশের মধ্যে ফ্রান্সের অবস্থান সপ্তম। দেশটিতে এর আগে শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) ২৪ ঘণ্টায় ৯৪ হাজার ১২৪ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। একই সময়ে মারা যায় ১৬৭ জন।
 

এদিকে, ক্রিসমাস উপলক্ষে শনিবার ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস দরিদ্রদের জন্য ভ্যাকসিন এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি করোনা মহামারি থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেন।
 

ফ্রান্সিস তার ভাষণে বলেন, গরিবদের প্রতি মানুষের উদাসীন আচরণ ঈশ্বরকে অসন্তুষ্ট করে। সবাইকে আলোকসজ্জার পেছনে থাকা অন্ধকারের দিকেও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
 

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন হচ্ছে আক্রান্তের নতুন নতুন রেকর্ড। দেশটিতে সবশেষ একদিনে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার করোনা শনাক্ত হয়েছে।
 

ভয়, ভীতি আর শঙ্কা কাটছে না ব্রিটেনে। দেশটিতে প্রতিদিনিই আগের সব রেকর্ড ভাঙছে করোনা। প্রতিদিনিই হুহু করে বাড়ছে সংক্রমণ। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। ব্রিটেনে সবশেষ একদিনে কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ২০ হাজারের বেশি।
 

যা এ যাবতকালে একদিনে আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজারের বেশি। ব্রিটিশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড়দিনের পর এই সংখ্যা কয়েক গুণ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
 

বড়দিনের উৎসবের এই সময়ে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার বাড়ায় ভ্রমণ নিয়ে বিপত্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। শেষ মুহূর্তে এসে বাতিল হয়ে গেছে চার হাজারের বেশি ফ্লাইট। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও রয়েছে।
 

ওমিক্রনের কারণে উড়োজাহাজগুলোর কর্মী থেকে শুরু করে ক্রু ও পাইলটরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় ফ্লাইট বাতিল করেছে অনেক এয়ারলাইন্স কোম্পানি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই বাতিল করেছে সাড়ে চার শতাধিক ফ্লাইট। হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দুর্ভোগ পড়েছেন যাত্রীরা।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যে ফের করোনার রেকর্ড শনাক্ত
 

চীনেও প্রায় সাড়ে ৬০০ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়া এয়ার ইন্ডিয়া, শেনজেন এয়ার লাইনস, লায়ন এয়ার এবং উইংস এয়ারসহ প্রায় বিভিন্ন এয়ালাইন্স কোম্পানি ১০টির বেশি করে ফ্লাইট বাতিল করেছে।
 

শুধু ব্রিটেন নয়; ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে ওমিক্রন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এখন পর্যন্ত ১১০টি দেশে ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার নতুন এ ধরন। কয়েকটি দেশে সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ওমিক্রন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে শঙ্কা সংস্থাটি।
 

এছাড়া ভারতেও ওমিক্রন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। দেশটির মধ্যপ্রদেশ অঙ্গরাজ্যে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করে কর্তৃপক্ষ। এমনকি এ পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি এক বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
 

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সরকারি সংস্থা হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অন্য ধরনগুলোর তুলনায় ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি ডেল্টার চেয়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কম।
 

গবেষণা বলছে, ডেল্টার তুলনায় ওমিক্রন আক্রান্তদের ইমারজেন্সিতে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি ৪৫ ভাগ কম এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কম ৭০ ভাগ। একদিন আগেও এই ঝুঁকি ডেল্টার চেয়ে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কম বলে জানিয়েছিলো লন্ডন ইমপেরিয়াল কলেজ প্রকাশিত এক গবেষণা।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *