ফরিদপুরে নৌকার তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত | বাংলাদেশ

ফরিদপুরে নৌকার তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত | বাংলাদেশ

<![CDATA[

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯টিতেই নৌকার প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। মাত্র একটিতে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আর জামানত হারিয়েছেন মনোনীত তিন নৌকার প্রার্থী। জানা যায়, কোন প্রার্থীই মোট কাস্টিং ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

নৌকা প্রতীকের একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী হলেন শেখর ইউনিয়নের কামাল আহমেদ। অন্য ৯টিতেই নৌকার ভরাডুবি হয়।

কামাল আহমেদ নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৮৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ মোটর সাইকেল প্রতীকে  পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৮৬ ভোট।

এছাড়া বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আব্দুল হক শেখ মোটরসাইকেল প্রতীকে তিন হাজার ৫৩ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত একেএম হামিদুল বারি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন দুই ২০১ ভোট, নৌকা পেয়েছে ৮৭০ ভোট।

ময়না ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল হক মৃধা হাতপাখা প্রতীকে ৫ হাজার ৬৯৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের পলাশ বিশ্বাস পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৮ ভোট।

চতুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মহম্মদ রফিকুল ইসলাম চশমা প্রতীকে ৪ হাজার ৫৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন,  তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস, এম আলিমুজ্জামান পেয়েছেন ৪ হাজার ২৬৬ ভোট। এ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খোন্দকার মো. আবুল বাসার ৭১৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছে।

গুনবহা ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত মো. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ) চশমা প্রতীকে ৪ হাজার ৯০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন , তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী  মু. আমিনুল ইসলাম মোটর সাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪,১৮১ ভোট। এই ইউনিয়নে নৌকা এক হাজার ৮২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছে।

সাতৈর ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত রাফিউল আলম মিন্টু ৫ হাজার ৮৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার মজিবর রহমান পেয়েছে ৫ হাজার ৭০৮ভোট।

ঘোষপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইমরান হোসেন নবাব আনারস প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার মো. ফারুক হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৯১৩ ভোট।

রূপাপাত ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান মোল্যা আনারস প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৫৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার মো. মহব্বত আলী পেয়েছেন ৩ হাজার ২০৪ ভোট।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে জয়ী মেম্বার ও সমর্থকদের বাড়িতে ভাঙচুর, আহত ৫

পরমেশ্বর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মান্নান মাতুব্বর ঘোড়া প্রতীকে ৪ হাজার ৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাব্বির মিনা অনিক পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৪৫ ভোট। নৌকা এ ইউনিয়নে রয়েছে চার নম্বরে।

দাদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মোশাররফ হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ৫ হাজার ১২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান মো. শামীম মোল্যা চশমা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ১১০ ভোট। নৌকার শেখ সাজ্জাদুর রহমান হাই এক হাজার ১৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছে।

নৌকার প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্তের ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমএম মোশারফ হোসেন মুশা মিয়া  বলেন, ‘নৌকার তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে কি-না আমার জানা নেই। আমরা হেরে গেছি এতটুকু জানি। এর বেশি কিছু বলতে চাচ্ছিনা।

সচেতন মহল বলছেন উপজেলা আ’লীগের কাঁদা ছুঁড়াছুড়ির কারনে হেভিওয়েট প্রার্থীরা আ’লীগের মনোনয়ন থেকে বাদ পড়ায় নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। নৌকার ভরাডুবির জন্য উপজেলা আ’লীগের নেতারাই দায়ি।’

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *