প্রথম সম্মানী পেয়েছিলেন মাত্র ২৫ পয়সা | বিনোদন

প্রথম সম্মানী পেয়েছিলেন মাত্র ২৫ পয়সা | বিনোদন

<![CDATA[

শৈশবের দিনগুলো ছিল তার নিদারুণ, অর্থের অভাবে কত স্বপ্ন কবর দিতে হয়েছিল তা কেবল তারই জানা। তবুও থেমে যাননি তিনি, স্বপ্ন দেখেছেন একদিন পরিবর্তন হবে তার ভাগ্য। যে প্রতিবেশীর রেডিওতে গান শুনেছিলেন তিনি হয়ত তারাই একদিন তার গান শুনবেন আর গর্ব করবেন। এমন ভাবনা থেকেই সংগীতের প্রতি তার ভালোবাসা।

গান গেয়ে নাম কামাতে গ্রামের এক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন তিনি। সম্মানী হিসেবে পান মাত্র ২৫ পয়সা। এরপরের গল্পটা ভিন্ন,   ১০০ টাকায় সারা সন্ধ্যা নৈশক্লাবেও গান গেয়েছিলেন তিনি। পরে এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাঠমান্ডুর আকাশবাণীতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বলছি, আশি ও নব্বইয়ের দশকে বলিউডের গানের দুনিয়া শাসন করা উদিত নারায়ণের কথা।

উদিত নারায়ণ ঝা, ১৯৫৫ সালের ১ ডিসেম্বর নেপালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হরেকৃষ্ণ ঝা ছিলেন কৃষক। মা ভুবনেশ্বরী ঝা লোকগান গাইতেন। মায়ের কাছ থেকেই গানের প্রথম পাঠ। মোহাম্মদ রফির ভক্ত উদিত নারায়ণ নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত রত্ন রাজ্য লক্ষ্মী ক্যাম্পাস কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন।  ১৯৭০ সালে নেপালের বেতারে প্রথম গান করেন তিনি।  ওই সময়ে তিনি নেপালি ও মৈথিলি ভাষার লোকগান গাইতেন।  আট বছর গান করার পর ভারতীয় দূতাবাসে বৃত্তি পাওয়ায়  ধ্রুপদি সংগীতের পাঠ নিতে তিনি মুম্বাই পাড়ি জমান।

ভারতে যাওয়ার পর ১৯৮০ সালে উদিত নারায়ণকে সুযোগ দেন সংগীত পরিচালক রাজেশ রোশন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই লতা মঙ্গেশকরসহ তখনকার নামী শিল্পীদের সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে গাওয়ার সুযোগ পেয়েও সুবিধা করতে পারেননি তিনি।  ১৯৮৮ সালে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ সিনেমায় উদিত নারায়ণকে সুযোগ দেন আনন্দ মিলিন্দ। উদিতের কণ্ঠে আমির খানের লিপে ‘পাপা ক্যাহতে হ্যায়’ সারা ভারতে সাড়া ফেলে দেয়, জয় করে বাংলাদেশের দর্শক-শ্রোতার মনও। সিনেমার নায়ক আমির খান নতুন হওয়ায় অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েন, একটাসময় এই শিল্পী ঠিক করেন বিহারে ফিরে চাষবাস শুরু করবেন। কিন্তু সিনেমার মুক্তির তৃতীয় সপ্তাহে তিনি বুঝে যান এই ইন্ডাস্ট্রিতে থাকার জন্যই এসেছেন তিনি। এরপর ১৯৯৩ সালে ‘প্যাহলা নেশা’ সুপারহিট হয়। উদিতের এর পর শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা।

আরও পড়ুন: দেশের নির্ভরযোগ্য চিত্রনায়িকা হতে চান তিনি

নেপালি আর ভারতের হিন্দি গানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি উদিত। গান গেয়েছেন ৩৬টি ভাষায়। শুধু তাই নয়,  বাংলাদেশেও একাধিক চলচ্চিত্র এবং অডিও মাধ্যমে গান গেয়েছেন উদিত নারায়ণ। আঁখি আলমগীরের সঙ্গে তার একটি দ্বৈত গানের অ্যালবাম সাড়া ফেলে অডিও বাজারে।

তিন দশক দাপট দেখানোর পর এখন কেন তার কণ্ঠ থেকে বঞ্চিত ভক্তরা। এমন প্রশ্নে এই গায়ক জানিয়েছিলেন,  সততার অভাব। প্রযুক্তির দাপটে  হারিয়েছে কণ্ঠ।

অমিতাভ বচ্চন থেকে রাজেশ খান্না, দেব আনন্দ কিংবা তিন খান—সবার ঠোঁটেই সাবলীল উদিত। দেড় হাজারের বেশি সিনেমায় গান গেয়েছেন তিনি। চার দশকে সবমিলিয়ে ২৫ হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন গানের এই জাদুকর। বিবিসির সেরা ৪০ বলিউডের গানের মধ্যে উদিতের রয়েছে ২১টি গান। 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *