কক্সবাজার বেড়ানোর সুযোগ পেলেন ভাসানচরের রোহিঙ্গারা

বেনার নিউজ:

ভাসানচরে থাকা রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করার অনুমতি পেয়েছেন। এক বছরের বেশি আগে বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো তাদের এই সুযোগ দেওয়া হলো এবং এটা চলবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভাসানচর থেকে ৬৫ জনের একটি দল স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করতে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে পৌঁছেছেন বলে বুধবার রাতে বেনারকে জানান অতিরিক্ত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ সামছু-দৌজ্জা।

তাঁরা কক্সবাজারে স্বজনদের সঙ্গে কিছুদিন সময় কাটাবেন বলে জানান তিনি।

“ভাসানচরে বসবাসকারীদের অনেক স্বজন এখনও কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে রোহিঙ্গারা আবারও ভাসানচরে ফেরত যাবেন,” সামছু দৌজ্জা বলেন।

“কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে স্বজনদের সাথে দেখা করতে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আমাদের কাছে বেশ কিছু রোহিঙ্গা আবেদন করেছিলেন,” জানিয়ে ভাসানচর থেকে আরআরআরসি প্রতিনিধি ও ক্যাম্প-ইন-চার্জ (সিআইসি) জহিরুল ইসলাম মুঠোফোনে বেনারকে বলেন, “তারই ভিত্তিতে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ভাসানচরে বসবাসকারী ৬৫ জন রোহিঙ্গার একটি দল কক্সবাজারে রেখে আসা স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন।”

“তাঁরা সেখানে সপ্তাহ দুয়েক থাকবেন। এরপর আবার ভাসানচরে ফিরে আসবেন,” বলেন তিনি।

নৌ বাহিনীর একটি জাহাজ এসব রোহিঙ্গাদের ভাসানচর থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে দুটি বাসে করে তাঁদের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

আগামী ১৭ ডিসেম্বর রোহিঙ্গাদের এই দলটি ভাসানচর ফিরে যাবে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনারকে জানান নৌ বাহিনীর একজন কর্মকর্তা।

ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর শুরু হয় ২০২০ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। এ পর্যন্ত সেখানে গেছেন প্রায় বিশ হাজার রোহিঙ্গা। ভাসানচরে যাওয়া রোহিঙ্গারা শুরু থেকেই কক্সবাজারে যাতায়াতের দাবি জানালেও সরকার এতদিন রাজি হয়নি। তবে গত ৯ অক্টোবর ভাসানচরে রোহিঙ্গা শিবির দেখভালের দায়িত্বে জাতিসংঘ যুক্ত হওয়ার পর আগের অবস্থান থেকে সরে আসে সরকার।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর সহযোগিতায় এক বছরের মধ্যে এক লাখ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরের লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ সক্ষম হবে বলে সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

চুক্তির পরে নভেম্বরের শুরুতে দ্বীপটি দেখে আসে ইউএনএইচসিআর এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) যৌথ প্রতিনিধি দল। ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের ত্রাণ সহায়তার ১৩৭ দশমিক ২৮ টন মালামাল নিয়ে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ভাসানচরে পৌঁছায়।

আশা করি আমরাও সুযোগ পাব’

কক্সবাজারে থাকা স্বজনদের সাথে দেখা করতে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত আবেগাপ্লুত করেছে ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের।

ভাসানচরে বসবাসকারী রশিদা বেগম মুঠোফোনে বেনারকে বলেন, “এখানে এসে ভেবেছিলাম আর কোনোদিন কক্সবাজারে থাকা স্বজনদের দেখতে পাব না। কিন্তু দীর্ঘ দিন পর ভাসানচর থেকে কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসকারী আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে এখান থেকে একটি দল গেছে। এটি সরকারের ভালো উদ্যোগ।”

“আমিও কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছি। আশা করি এই দলটি ফিরলে আমরাও যাওয়ার সুযোগ পাব,” বলেন তিনি।

ভাসানচর স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের ক্যাম্পে স্বজনদের সাথে দেখা করার সুযোগ দেখে অনেকে ভাসানচরে যেতে উৎসাহিত হবে বলে মনে করেছেন উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্পের নেতা মো. রফিক।

তিনি জানান, “অনেক রোহিঙ্গা যাতায়াতের সুযোগ না থাকায় ভাসানচরে যেতে চায় না। ফলে এ সুযোগটা দেখে লোকজনের মাঝে ভাসানচরে যেতে উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে।”

ভাসানচর থেকে কক্সবাজারে স্বজনদের সাথে দেখা করা এই সুযোগ অব্যাহত থাকবে বলে বেনারকে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের সেনাদের অভিযান থেকে প্রাণে বাঁচতে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন।

এদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নৃশংস অভিযানের সময়ে পালিয়ে এসেছিলেন। শরণার্থীদের চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *