এবার বরগুনার এমপি শম্ভুর ফোনালাপ ফাঁস | বাংলাদেশ

এবার বরগুনার এমপি শম্ভুর ফোনালাপ ফাঁস | বাংলাদেশ

<![CDATA[

বরগুনা জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন ও কয়েকটি মামলার বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর কথোপকথনের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। কয়েকদিন আগে ফোনালাপটি ম্যাসেঞ্জারে ছড়িয়ে পড়ে।

ফোনালাপের বিষয়টি ওসি তারিকুল ইসলাম নিশ্চিত করলেও কীভাবে এটা ফাঁস হয়েছে, তা জানেন না বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে এ বিষয়ে জানতে এমপি শম্ভুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা পারা যায়নি।

অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়াও তিনি মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।
সাংসদ সদস্য শম্ভু ও ওসি তারিকুলের কথোপকপন এখানে তুলে ধরা হলো—

ওসি: স্যার আসসালামু আলাইকুম।

এমপি: ওসি সাহেব কেমন আছেন?

ওসি: আছি স্যার। ভালো আছেন স্যার?

এমপি: আপনার পরবর্তী দারোগা কি আসছে বরগুনা?তা জানের না? আপনি জানেন না?

ওসি: না স্যার।

এমপি: বলছি- আপনি যখন চলে যাবেন, তখন যে আসবে সেকি আসছে বরগুনা?

ওসি: জানিনা স্যার। কেন স্যার?

এমপি: প্রশ্নটা খুব কড়া না?

ওসি: অনেক কড়া স্যার। আমি তো আপনাদের রেখে যেতে চাই না।

এমপি: সেটা ঠিক আছে। আচ্ছা আপনি কোথাও বলেছেন সাবু (সাহাবুদ্দিন সাবু, জেলা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী) যুবলীগে আপনার প্রার্থী?

ওসি: আমার প্রার্থী?

এমপি: এ কথা বলছেন আপনি কারো কাছে?

ওসি: আমার প্রার্থী হয় কী করে স্যার? আমি কি রাজনীতি করি স্যার?

এমপি: আমি কিন্তু বিশ্বাস করি না। আপনি বলছেন কি না, চিন্তা করেন।

ওসি: না স্যার। না।

এমপি: মেশেন তো সবার সাথে, কোন গুন্ডার ধারে বসে কী কইছেন কে জানে।

ওসি: স্যার এটা ফালতু কথা, আমি ওসি হয়ে এ ফালতু কথা বলতে পারি না স্যার।

এমপি: আপনি বলতে পারেন না?

ওসি: না স্যার।

এমপি: এটা কইলে এসপি সাহেব কইতে পারে?

ওসি: না স্যার সে–ও বলতে পারে না, এটা আপনারা বলতে পারেন।

এমপি: বোঝেন না এলাকায় কত কথাই না হয়।

ওসি: এটা কোনো কথা স্যার? আমরা বলব কেন, এক সময় আমরা ছাত্রলীগ করেছি ঠিক আছে। এখন তো বলার কোনো স্কোপ (সুযোগ) নাই। আজ তো স্যার
বিএনপিকেও প্রোগ্রাম করতে দিলাম।

এমপি: করবে না কেন? ভদ্র আচরণ করলেই হয়, অভদ্র আচরণ করলেই পিটান। অভদ্র, মারমুখী হইলে তখন আমরা পুলিশকেও জিজ্ঞেস করব না, তখন আমাদের পোলাপান পিটাইবে। বইলা দিয়েন আপনারা (বিএনপি) করলে ভদ্রভাবে কইরেন।

ওসি: জি স্যার, তারা ভদ্রভাবেই করছে।

এমপি: ৬ নম্বরে (বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়ন) ইউনিয়ন ইলেকশনের সময় যে মামলাগুলা হইছিল, সেগুলা কী অবস্থায় আছে?

ওসি: স্যার ওগুলা কি পেন্ডিং আছে?

এমপি: হ্যাঁ পেন্ডিং আছে না। রিপোর্ট তো দেন নাই এখনো। যাওয়ার আগে ওগুলা গুছাইয়্যা দিয়া যাইয়েন।

ওসি: পেন্ডিং নাই। গুছাইয়া দেবোয়ানে স্যার।

এমপি: আবার তাইলে আমরা বরগুনায় অ্যাডিশনাল, বা এএসপি কইরা নিয়া আসমু।

ওসি: না স্যার দোয়া কইরেন। আমার আর প্রমোশনের দরকার নেই।, এই র্যাঙ্কেই যেন বাড়ি যাইতে পারি স্যার।

এমপি: অনেকে এএসপি হইতে চায় না, ওসিই থাকতে চায়।

ফোনালাপ ফাঁসের পর এ বিষয়ে ৬ নং বুড়িরচর ইউনিয়নের চেলারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, গত বছরের ২১ জুন বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ভায়রা সিদ্দিকুর রহমান। তিনি ওই নির্বাচনে তার কাছে হেরে যান। ওই নির্বাচনের আগে ও পরে এই দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষ থানায় অন্তত ১০টি মামলা করে। এর মধ্যে এমপির ভায়রা সিদ্দিকুর রহমানের লোকজন ছয়টি এবং তার লোকজন চারটি মামলা করেন।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, নির্বাচনে সাংসদের ভায়রা সাবেক চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের অনুসারীদের হামলার ঘটনায় আমার নেতা-কর্মীরা চারটি মামলা করেছিল। সেই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পুলিশ যাতে আদালতে দাখিল করে, সিদ্দিকুর রহমান সেই চেষ্টা করছিলেন। তাতে কাজ না হওয়ায় সাংসদকে দিয়ে ওসিকে বদলির হুমকি দিয়ে এই কাজ করাতে চাইছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বুড়িরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তিনি এক পক্ষের মামলা নিষ্পত্তি করতে বলেননি। এটা ভুয়া কথা। এ বিষয়ে আমি বেশি কিছু জানি না। আমি জেনে তারপর জানাবো।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *