ইতালির কোন শহর বসবাসের জন্য কতটুকু নিরাপদ | আন্তর্জাতিক

ইতালির কোন শহর বসবাসের জন্য কতটুকু নিরাপদ | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

সম্প্রতি ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির নিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকা প্রকাশ করেছে। যেখানে সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে উঠে এসেছে অরিস্তানোর নাম। আর সবচেয়ে অনিরাপদ নগরী মিলান।

ইতালিয়ান শব্দ ‘মাফিয়া’ ভৌগলিক গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বময় অপরাধিদের চিহ্নিত করার তকমা হিসেবে ব্যবহার হয়। মাফিয়া বললে সবাই বুঝতে পারে অপরাধীদের সংজ্ঞবদ্ধ চক্র। যা জুয়া, মাদক পাচার, জালিয়াতি, লোন শেয়ারিং, চুরি, ডাকাতি ও পতিতাবৃত্তি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মতো কাজে জড়িত থাকে।

এক সময় শুধু দক্ষিণ ইতালিকে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে গণ্য করা হতো। ইতালির রাজধানী রোম থেকে দক্ষিণে নাপোলি, ক্যালাব্রিয়া ও সিসিলি ছিল মাফিয়াদের অভয়ারণ্য। ২৫ অক্টোবর ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যান অনুসারে দেখা যায়, মাফিয়া কর্মকাণ্ড এখন আর দক্ষিণে সীমাবদ্ধ নেই। তা ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরের সমৃদ্ধ শহরগুলোতেও।

মাফিয়া চক্রে তালিকার প্রথম ও বর্তমানে নতুন কেন্দ্র হচ্ছে ইতালির বাণিজ্যিক রাজধানী মিলান। ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৫৯,৬১৩টি অপরাধ রেকর্ড করা হয়েছে এই নগরীতে। যা প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে ৪৮৬৬টি। দ্বিতীয় বোলজানো শহর, যেখানে প্রতি লাখে ৪,৬৩৬টি অপরাধ রেকর্ড হয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত শহর রিমিনি, প্রতি লাখে ৪৬০৩টি  অপরাধ ঘটেছে এই শহরে। অপরাধ প্রবণ আরো কিছু শহর হল প্রাতো, ফ্লোরেন্স, তুরিন ও রোম।

আরও পড়ুন: ইরাকের ১১ জনকে হত্যা করল আইএস

এছাড়াও ইতালির বিশেষ কিছু শহর রয়েছে যেগুলো ভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে। চুরি ও ডাকাতিতে এগিয়ে নাপোলি, পারমা  শহরে বেশি দোকান ডাকাতি হয়। পাদোভাতে বেশি হয় মাধক অপরাধ এবং ত্রিয়েসতে শহরে পরপর দু’বছর সবচেয়ে বেশি রেকর্ড হয় যৌন সহিংসতার ঘটনা ।

এই যখন ইতালির কিছু শহরের মাফিয়া কর্মকান্ডের চিত্র, তখনও অসংখ্য শহর রয়েছে শান্তিপ্রিয়। সম্পূর্ণ মাফিয়া কর্মকান্ড মুক্ত। এদের মধ্যে অন্যতম হলো সার্দিনিয়ার অরিস্তানো, পর্দাননে, বেনভেনোত, ত্রিভেজু, কুনিয়ো, প্রিমন্তে, লোদি, আকুইল্লা, পতেনসা, ত্রেনতো। এছাড়াও ইতালির বিশটির মতো শহর রয়েছে যেখানে কোনো চুরির ঘটনাও ঘটেনি। দক্ষিণের বেনভেনোত শহরে একটিও যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি গত এক বছর যাবত।

আরও পড়ুন: শিক্ষার দাবিতে রাজপথে আফগান নারীরা

রোম, ভেনিস এবং ফ্লোরেন্স শহরে বৃদ্ধি পেয়েছে পকেটমারের সংখ্যা। ভেনিসের জন্য তা নতুন অভিজ্ঞতা। শহরটি সাগরে ভাসমান এবং পদে পদে সিসি ক্যামেরা বসানো। তাই অনেক পকেটমারও ধরা পড়ছে, যাদের অধিকাংশ পূর্ব ইউরোপীয়ান নাগরিক।

ইতালিতে চলতি বছর প্রতিদিন গড়ে ৫,২১৫ অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। যা ২০২০ সালের তুলনায় সাড়ে সাত শতাংশ বেশি, কিন্তু ২০১৯ সালের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম। এসব অপরাধের সঙ্গে রিপোর্টে উঠে এসেছে দেশটিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সাইবার ক্রাইমের মতো অপরাধ, ইতিমধ্যে যার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে আশংকাজনক হারে। ২  মাস পূর্বে সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়েছে রোম অঞ্চলের  করোনা ভাইরাসের নিবন্ধন ওয়েব সাইট।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *